এখনই লেবানন ছাড়ার নির্দেশ মার্কিন দূতাবাসের!
![]() |
| এখনই লেবানন ছাড়ার আহ্বান মার্কিন দূতাবাসের র |
লেবাননে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের এখনই দেশটি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য জরুরি নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। সোমবার সকালে প্রকাশিত এক বার্তায় দূতাবাস জানিয়েছে, বাণিজ্যিক ফ্লাইটের সুযোগ থাকতেই দ্রুত লেবানন ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর, যার জবাবে ইসরায়েল পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈরুতের উপকণ্ঠ ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের রাতভর হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত। সারা দেশে বিমান হামলা চলছে, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল, বেকা উপত্যকা এবং বৈরুতের কিছু অংশে।" নাগরিকদের সিরিয়া সীমান্তের কাছে, শরণার্থী শিবিরে এবং বৈরুতের দাহিয়ে এলাকা থেকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যারা এখনও লেবানন ত্যাগ করবেন না, তাদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা তৈরি করতে এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশত্যাগ বা উদ্ধারকাজে তারা সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে পারবেন না।
বৈরুত-রাফিক হারিরি বিমানবন্দর খোলা রয়েছে এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইটও উপলব্ধ রয়েছে, তবে যেকোনো সময় ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকরা যেন বৈরুতের দূতাবাসে না যান, সে বিষয়েও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শুধু লেবানন নয়, প্রতিবেশী বাহরেইনেও মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বাহরিনের রাজধানী মানামায় মার্কিন দূতাবাস পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর গোটা বিশ্বে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার জন্য ইতিমধ্যেই সাধারণ নির্দেশ জারি করেছিল স্টেট ডিপার্টমেন্ট। সর্বশেষ এই হামলায় হিজবুল্লাহ প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ইসরায়েলে হামলার দায় স্বীকার করেছে, যা এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানি নেতা আলি খামেনেয়ির হত্যা এবং ইসরায়েলের বারবার আগ্রাসনের জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম জরুরি বৈঠক শেষে হিজবুল্লাহর সমালোচনা করে বলেছেন, যুদ্ধ আর শান্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র কর্তৃত্ব রাষ্ট্রের হাতেই থাকা উচিত।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে স্থল অভিযান চালানোসহ সব ধরনের বিকল্পই বিবেচনা করা হচ্ছে এবং হিজবুল্লাহকে এর খুব মূল্য চোকাতে হবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ নিশ্চিত করেছেন, এই অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে চার মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে তিনি একে ইরাক বা জাতি-গঠনের অভিযানের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এটি অনন্ত যুদ্ধ নয়।

0 Comments